বাসন মাজা
ম ল য় রা য় চৌ ধু রী
রবীন্দ্রনাথ, আপনি কখনও বাসন মাজেননি সেটা জানি
কেননা আপনি তো গুরুদেব যাঁরা বল্মীকের ভেতরে থাকেন
বুদ্ধদেব বসু মহাশয়, রান্নাপটু, উনিও মেজেছেন কিনা সন্দেহ
জীবনানন্দ বউকে একই সঙ্গে ভালো ও খারাপ বাসতেন
ডায়েরিতে আইনস্টাইনি ফরমুলায় বলেননি বাসন মাজার কথা
এবং বিষ্ণু দে, অমিয় চক্রবর্তী, সুধীন দত্তেরা জানি না জানতেন কিনা
কাজের মেমরা এসে কোথায় বাসন মাজেন ! অলোকরঞ্জন থাকেন
অর্ধেক বিদেশে আর বাকি হাফ দেশে ; আলোক সরকারও
হয়তো জানতেন না বাজারে এসে গেছে বাসন মাজাকে কবিতার চেয়ে
সহজ করার জন্য ঝুরোসাবান তারের নানান জালিকা ।
মহিলা ও পুরুষ কবিদের এটাই তফাত — অনেকে জানে না ।
আমি আর দাদা শৈশব থেকে শিখেছি বাসন মাজার কারিকুরি
এখন তা কাজে দিচ্ছে ; বুড়ি তো ঝুঁকতে পারে না, আমি পারি
এই বয়সেও রোজই বাসন মাজি ফুলঝাড়ু দিই বুঝলেন আলবেয়ার ক্যামু
গারসিয়া মার্কেজ — প্লেগ নয়, করোনা ভাইরাসের দিনে বুড়ো-বুড়ি প্রেম !
একটু জানাবেন
সিদ্ধার্থ সিংহ
যদি জানেন, প্লিজ একটু জানাবেন?
সেই কোন ছোট্টবেলা থেকে শুনে আসছি---
তেত্রিশ কোটি দেবতা।
এখনও নাকি তেত্রিশ কোটি!
আরে বাবা, তাঁরা কি কেউ কিছু করেন না?
নাকি দেবীরা সব বাঁজা হয়ে গেছেন
দেবতারা ইমপোটেন্ট
এত সব জাপানি-টাপানি বেরিয়েছে
এত সব মেশিনপত্র
তাতেও কোনও কাজ হচ্ছে না, না?
যদি জানেন, দয়া করে একটু জানাবেন প্লিজ
আসলে বহু দিন দেবতাদের কোনও বাচ্চা-কাচ্চা দেখছি না তো...
খুব চিন্তায় আছি
ভয়ে ভয়েও
এত দানব গজাচ্ছে চারিদিকে!
বি ষ্ণু চ ক্র ব র্তী
অতঃপর, তোমার সাথেই সংসার পাতা গেলো।
যে তুলোগুলো ওবেলা ভিজে ছিল
কয়েকটা নাগিনী এলিয়ে আছে
অতঃপর, বর্ষা এলো
কালবৈশাখী থামিয়ে।
স্বপ্নের সংসারে স্বপ্নগুলো
ধরে রাখতে,
অতঃপর,
শিয়রের কাছে বেলী এসেছে।
আচ্ছা, গোলাপ এখন আর ভালো লাগে না?
শুকনো গোলাপগুলো
আলমারির কোণায় থাক তাহলে?
অতঃপর,
কখনো সময় পেলে ছুঁয়ে দেখা যাবে।
বেরিয়ে আসা যাবে
বসন্ত আর বৃষ্টির দেখাদেখির
দিনে পলাশের বাগানে।
বা, পাথুরে রাস্তায় বসা যাবে
আবার কিছুক্ষণ।
অতঃপর,
হঠাৎ চোখ খুললে দেখবো
কদম ফুটেছে লাখো!
একটা দমকা হাওয়া বইবে
বৃষ্টির বুক চিরে।
এমন সময়,
কখনো ভাবনা এলে-
গুছিয়ে ভিজতে ভিজতে
কাব্য করা যাবে।
অতঃপর?
চায়ের কাপে আড্ডা জমবে
তোমার আর আমারই।
দুটি কবিতা
অ সী ম সে ন
ফেরা
সারাদিন অন্ধকার গলিতে হেঁটে
গভীর রাতে আলোর গল্প করে
সন্তানকে।
ঘর ভেসে যায় আলোয়।
সন্তান অভিমন্যুর মতো----
অন্ধকার থাকতেই কারা যেন
ডেকে নিয়ে যায় বাবাকে।
মা কলঘরে।
খেলা
নীরবে নক্ষত্র গুনি
নিঃশব্দ আকাশে।
কারা যেন বলেছে---
ধূমকেতু দেখা দেবে
পাইনি দেখতে।
অখন্ড সময় পার করি
নক্ষত্র আর মৃত্যু গুনে।
সেখানে শুধু আলো আর অন্ধকার
মিলে মিশে খেলা করে।
ছেঁড়া তার
তা নি য়া ব ন্দ্যো পা ধ্যা য়
যা ছিলো দুজনের তা আজ কমে গেছে
মিয়োনো রোদের মতো নিস্তেজ হয়ে
বুনতে বুনতে দুটো কাঁটায় কখন যে ঘর খুলে উলের গোলা গড়িয়ে গেছে কোল থেকে
অনেক দুরে,গেছে জট পাকিয়ে।
গুনতে গুনতে দিন কবে যে গেছে কমে
যা ছিলো দুজনের আজ তা কমে গেছে
যে পথে হাতে হাত,যে পথ চলা বাকি
হঠাৎই একদিন থমকে মুখোমুখি
নদীর দুই পাড়, হবেনা একাকার
কখনো আর।
হবেনা কথা বলা, ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা
থামলো ভেসে চলা,রইলো হাহাকার
দুজনে দুই সুরে বাঁধলো তানপুরা
রইলো পড়ে শুধু ছেঁড়া তার।
যা ছিলো দুজনার আজ তা নেই, আছে
কাটাছেঁড়া, মৃতদেহ, ভালোবাসার।
ঘুম
শ্রী ম ন্ত ভ গ ত
আমি পরশ দেখেছি রাতের ঘুমায়নি ভোরবেলাতে
আমি দেখতে চেয়েছিলাম ফুল
মানুষের চোখে তাকিয়ে ছিলাম
তাই কুড়িই দেখতে পেলাম
আমি শিশির দেখতে চেয়েছিলাম
শুধু ঝরে যাওয়া সবুজ চোখে পড়ল
আমি আদিম হতে চাইলাম আবার যুগান্তর টেনে নিল, ছিনিয়ে নিল শৈশব আমি কবি হতে চাইলাম স্বার্থপরতায় লেখক হয়ে গেলাম সব ছেড়ে সকাল দেখতে চাইলাম গ্রাস করল ঘুম, নিস্প্রান্তর ভাবনায় যখন জাগলাম, দেখলাম হাওড়া ফুল মার্কেট একটাও কুড়ি নেই সেখানে
আয়নায় দেখলাম মাথার উপর বিজ্ঞান জামায় কৃত্তিম রসায়ন আর ভিতরে শৈশব অনেক আগেই যুব চিন্তার পেন্ডুলাম হয়ে গেছ লেখক বা কবি নয় জীবনের ভাবনা হ্যাশট্যাগ সীমাবদ্ধ
ঘুম ধোঁয়ায় উন্মুক্ত






Comments
Post a Comment