১০ টি কবিতা
গোলাম রসুল
আমরা রাতের শহরের ভিতরে কুয়াশায় ভিজতাম
আমার একাকীত্বের জন্য পোশাক কিনতে অনেক রাত অবধি শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতাম
ঢেকে দেওয়া পাথরের গালিচা
শোকের রাস্তা
মনুমেন্টের নিচে ঘন্টা বাজত
আর সূর্যোদয়ের আগে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে যে কয়েদিকে তার হৃৎপিণ্ডের শব্দ শুনতে শুনতে এগিয়ে যেতাম
মেঘের ডাঙায় উলঙগ চাঁদ প্রহেলিকা
অপূর্ব জলাধার
পাগল হওয়া বারণ ছিল তাই একদল লোক পাপকে বিসর্জন দিতে শোভাযাত্রা করে চলেছে নন নদীর দিকে
অনেক রাত্রি
উড়ে যাওয়া রাস্তা বাজপাখির মতো
আকাশে অরণ্যের মিউজিয়াম
পৃথিবীর কাটাছেঁড়া দাগ
আর নক্ষত্ররা ধাতুর তৈরি আমাদের দৃষ্টি
অনেক দুঃখ আমাকে পৌঁছে দিত তার কাছে
শয়তান বন্ধুর মতো হাত রাখত কাঁধে
আর আমরা রাতের শহরের ভিতরে কুয়াশায় ভিজতাম
অনিশ্চয়তা
তোমার অনিশ্চয়তা সব পড়ে রয়েছে
আর আমাদের বাড়িটারও তোমার আগে থেকে অসুখ
আমাদের অসুখ ছিঁড়ে ফেলা হলুদ গোলাপের মতো
আর দেশটা এত ছন্নছাড়া হয়তো কবর দেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না
আলোর হৃৎপিণ্ডের মতো তুমি শুয়ে আছো
আমি কাঁচে হাত রেখে ভেদ করছি পৃথিবী
নরকের দশ নম্বর গেটের দিকে
আকাশে গাছসহ চাঁদ উঠছে
হারানো পথিক
দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ
এর চেয়ে আত্মহত্যা ভালো ছিলো
রাত বারটার সময় একটা লাশ চলে গেলো
পাতা উল্টানো কয়েকটি আনন্দ
আর বাঁধানো বইগুলোকে আমি কাগজ ওয়ালাকে বিক্রি করে দিয়েছে সকালে
হাইড্রেন ধাপারমাঠ বেশ কিছু স্বর্গীয় দৃশ্য আমার রুমালে
প্রথম মানুষের গন্ধ শুকছি
হাওয়া নৈরাজ্য তছনচ করে দিচ্ছে
শূন্যের স্ক্যালিটনকে
আমাদের অনুভূতি একটি ফাঁপা দুর্গ
তোমার সব অনিশ্চয়তা পড়ে রয়েছে
শেষ রবিবার আমাদের দেখা হয়েছিলো
শেষ রবিবার আমাদের দেখা হয়েছিলো
তখন একদল লোক জুয়ার মাঠের দিকে হারিয়ে যাচ্ছিলো
আর মেঘ আমাদের সহায় ছিলো বলে আমারা পরস্পরকে ভালোবাসছিলাম
তোমার মৃতমুখের ওপর ভাসছে সূর্য
বয়ে যাচ্ছে সময়
আবার হাজার দশেক পরে যদি তুমি জন্মাও
তাই একবার আমি তোমার গন্ধকে খুন করতে চেয়েছিলাম
মৃত্যু শতবার্ষিকীতে একটি বাড়ি ঘুমে আচ্ছন্ন
দিগন্ত ভাঙছে গাড়ির শব্দের মতো
হাওয়া জানালায় লেজের ঝাপটা দিয়ে চলে যাচ্ছে প্রবাসে
মানুষহীন পোশাক
বুকপকেটে হৃদয়
তোমাকে একবার মনে করলাম
আর তুমি লুকিয়ে পড়লে চামড়ার ভেতরে
চাঁদের সিক্সথ স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছি
প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি বর্ষণমুখর বাড়ি গুলোর সঙ্গে কথা বলি
সিঁড়িগুলো আমাকে উপহার পাঠায় মেঘ
আর সেই তুমুল বৃষ্টির মধ্যে আমি শুধু ভালবাসতে চাইতাম
তারপর একটা গাড়ি আমাকে নিয়ে যেতো সমুদ্রের ধারে
সমুদ্র ছিলো আমার সান্ত্বনা
কেটে গেছে অনেক বছর
একদিন চাঁদের সিক্সথ স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছি
হঠাৎ তোমার সাথে দেখা
পৃথিবীর অর্ধেকটা খাওয়া
আকাশে ঘন হয়ে আছে নক্ষত্ররা
আর বুদবুদের মতো হারিয়ে যাচ্ছে তারা
হয়তো জলের কিনারায় আমাদের ঠিকানা
সূর্য উঠে ডুবে যাচ্ছে মূহূর্তে মূহূর্তে
রাত্রির উদ্ভিদ
অলস দুপুরবেলা
আমি এক বাণ্ডিল আকাশ হাতে দাঁড়িয়ে
মেঘের উপত্যকায় পাখির ডানা আমার বাড়ি হারাই আর ফিরে ফিরে আসে
প্রাচীন পৃথিবী ঘুমের মতো
আর জেগে থাকা হাওয়া মহান সমুদ্রকে উড়িয়ে দিচ্ছে
জলাধারের কান্না থেকে নেওয়া আমার পাণ্ডুলিপি
যেভাবে আমি হারিয়েছি বাল্যকাল
একটি সরলরেখায় জ্বলে উঠলো নক্ষত্ররা
আমার অনুমানে একটি বিশাল রাত্রির উদ্ভিদ
কালো পোশাক পরে রয়েছে দিন
নক্ষত্রের জেগে থাকায় গিয়ে কতবার ফিরে এসেছি
অন্ধকার বিশ্রাম
হাঁটু মুড়ে একটি গৃহ
ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে অনন্তের ডাকহরকরা
ঠিকানা হতভাগ্য চামড়ার গাছ
জনশূন্য হয়েছে পথ
আঘাত নিভিয়ে দিয়েছে আলো
কবরের কুয়োর ভেতর দিয়ে গড়ে উঠছে প্রাসাদ
আকাশে পৃথিবীর অনেক উপমা
মেঘে লুকিয়ে রাখা ছেলেবেলা
দুরন্ত গতিতে ছুটে গেল পর পর ফাঁকা মাঠ
মুঠো খুলে যায়
বৃষ্টি পড়ে
আঙুল গুলো দিয়ে তুমুল বর্ষনের শব্দ শোনা যাচ্ছে
নদী সব ভুলে বয়ে যায়
দিগন্তে ভেসে ওঠে রেল লাইন
কয়েকটা কাগজ
আমি শিখে নিয়েছিলাম মূর্তি
আর যা দিয়ে আমার হাড়গুলো তৈরি
জলের অনেক নিচে নেমে গেছে সময়
আর আমি সুদীর্ঘ হয়ে শুয়ে পড়লাম
ঠিক এঁকে ফেলা দ্রাঘিমা রেখা
কালো পোশাক পরে রয়েছে দিন
দূর ক্লিনিক
কোনো দুঃখ নেই
স্প্রিং ঘুরিয়ে দম নিচ্ছে কবর
আর নক্ষত্রগুলোকে দেখে মনে হয় গড়ে উঠছে শহর
গোল হয়ে ঘুরছে আমার মাথা
প্রচণ্ড সূর্য
পুড়ছে ঈগল
আর আমি হাতে হাতে বিলি করছি দরজা
দূর ক্লিনিক
কাপড় উড়ছে সাদা
ওখানে দুজন প্রেমিক প্রেমিকা
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সন্ধ্যা দেখছে
গাছে পাতা গজাচ্ছে অজস্র দেশ
ঢালু হয়ে গড়াচ্ছে সমুদ্র গর্তের মুখে
জলের আন্দোলন
গভীর আয়নার তলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে জানি না কে
কোনো দুঃখ নেই
ধর্মনিরপেক্ষ
আকাশে নক্ষত্ররা ধর্মনিরপেক্ষ ছিলো
অন্ধকারে জোনাকিরা আলো জ্বেলে নিয়েছিলো
আর পৃথিবীর সব নদীগুলো বয়ে যাওয়ার আগে আগে বৃষ্টি গেয়ে যাচ্ছিলো আন্তর্জাতিক গান
আমি সবচেয়ে ভালবাসি মেঘ
আর শেষ পর্যন্ত নিরব থাকি
স্থানান্তরিত পর্বত
ঘুরিয়ে দেওয়া সমুদ্রের মুখ
ওদের কাছে জানতে চাই মানুষের ধর্ম
সুনশান রাস্তা
জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে দেখি পড়ে রয়েছে ছায়া
দেখা যাচ্ছে দিগন্তের শেষ
দুঃসময়
ঘুম নেই
চাঁদও অন্ধকার
আকাশের অগণন তারাও এসেছে মানুষের মধ্যে
পৃথিবীর সব নদী গুলোও যোগ দিয়েছে জনস্রোতে
সকলেই জানে লক্ষ্যে পৌঁছুতে হবে
এখন কত রাত কে জানে
হাইরোডে অতিবাহিত গাড়ি গুলো ছুটে চলেছে দিগন্তের দিকে
ফায়ারিং স্কোয়াডের প্রতিমূর্তি মেঘ
নিশীথ বৃষ্টিতে ভিজছে আলো
অস্তিত্বহীন হাওয়ার আস্ফালন
অপ্রতিরোধ্য নয় পাথর
চামড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হিম শীতল অনুভব
শেষ রাতে শিশির নিয়ে এলো মৃত্যু সংবাদ
মাটির ভোর
সূর্য উঠবে এক্ষুনি
বন্ধুরা সবাই রাস্তায়
মেঘ এসে ঢেকে দিল হিংসা
বৃষ্টি নামলো
সুর্য তখন পূর্ব দেশীয় এক নাগরিকের মতো চলে যাচ্ছে
আমি অনন্ত কাল ফুরিয়ে ফেলেছি তৈরি করেছি একটি স্তম্ভ
এখন অন্ধকার আমার মায়ের মতো
আমি জন্মভূমি ভিক্ষা চাইছি
জলের সব ধর্ম আমার একার
আমি একটি ঢালু উপত্যকা
এই দুঃখের দিনে পর্বতকে বাজাই
পাখি উড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের সুর
আলো জ্বলছে পান্থ শালায়
আমি হৃদয়কে নিক্ষেপ করি দ্বীপ মালায়
বন্ধুরা সবাই রাস্তায়
দাঁতে ভাঙছে দরজার খিল
অসহ্য সহানুভূতিশীল আকাশ
______
গোলাম রসুল
আমরা রাতের শহরের ভিতরে কুয়াশায় ভিজতাম
আমার একাকীত্বের জন্য পোশাক কিনতে অনেক রাত অবধি শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতাম
ঢেকে দেওয়া পাথরের গালিচা
শোকের রাস্তা
মনুমেন্টের নিচে ঘন্টা বাজত
আর সূর্যোদয়ের আগে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে যে কয়েদিকে তার হৃৎপিণ্ডের শব্দ শুনতে শুনতে এগিয়ে যেতাম
মেঘের ডাঙায় উলঙগ চাঁদ প্রহেলিকা
অপূর্ব জলাধার
পাগল হওয়া বারণ ছিল তাই একদল লোক পাপকে বিসর্জন দিতে শোভাযাত্রা করে চলেছে নন নদীর দিকে
অনেক রাত্রি
উড়ে যাওয়া রাস্তা বাজপাখির মতো
আকাশে অরণ্যের মিউজিয়াম
পৃথিবীর কাটাছেঁড়া দাগ
আর নক্ষত্ররা ধাতুর তৈরি আমাদের দৃষ্টি
অনেক দুঃখ আমাকে পৌঁছে দিত তার কাছে
শয়তান বন্ধুর মতো হাত রাখত কাঁধে
আর আমরা রাতের শহরের ভিতরে কুয়াশায় ভিজতাম
অনিশ্চয়তা
তোমার অনিশ্চয়তা সব পড়ে রয়েছে
আর আমাদের বাড়িটারও তোমার আগে থেকে অসুখ
আমাদের অসুখ ছিঁড়ে ফেলা হলুদ গোলাপের মতো
আর দেশটা এত ছন্নছাড়া হয়তো কবর দেওয়ার লোক পাওয়া যাবে না
আলোর হৃৎপিণ্ডের মতো তুমি শুয়ে আছো
আমি কাঁচে হাত রেখে ভেদ করছি পৃথিবী
নরকের দশ নম্বর গেটের দিকে
আকাশে গাছসহ চাঁদ উঠছে
হারানো পথিক
দেখা মাত্রই গুলির নির্দেশ
এর চেয়ে আত্মহত্যা ভালো ছিলো
রাত বারটার সময় একটা লাশ চলে গেলো
পাতা উল্টানো কয়েকটি আনন্দ
আর বাঁধানো বইগুলোকে আমি কাগজ ওয়ালাকে বিক্রি করে দিয়েছে সকালে
হাইড্রেন ধাপারমাঠ বেশ কিছু স্বর্গীয় দৃশ্য আমার রুমালে
প্রথম মানুষের গন্ধ শুকছি
হাওয়া নৈরাজ্য তছনচ করে দিচ্ছে
শূন্যের স্ক্যালিটনকে
আমাদের অনুভূতি একটি ফাঁপা দুর্গ
তোমার সব অনিশ্চয়তা পড়ে রয়েছে
শেষ রবিবার আমাদের দেখা হয়েছিলো
শেষ রবিবার আমাদের দেখা হয়েছিলো
তখন একদল লোক জুয়ার মাঠের দিকে হারিয়ে যাচ্ছিলো
আর মেঘ আমাদের সহায় ছিলো বলে আমারা পরস্পরকে ভালোবাসছিলাম
তোমার মৃতমুখের ওপর ভাসছে সূর্য
বয়ে যাচ্ছে সময়
আবার হাজার দশেক পরে যদি তুমি জন্মাও
তাই একবার আমি তোমার গন্ধকে খুন করতে চেয়েছিলাম
মৃত্যু শতবার্ষিকীতে একটি বাড়ি ঘুমে আচ্ছন্ন
দিগন্ত ভাঙছে গাড়ির শব্দের মতো
হাওয়া জানালায় লেজের ঝাপটা দিয়ে চলে যাচ্ছে প্রবাসে
মানুষহীন পোশাক
বুকপকেটে হৃদয়
তোমাকে একবার মনে করলাম
আর তুমি লুকিয়ে পড়লে চামড়ার ভেতরে
চাঁদের সিক্সথ স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছি
প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমি বর্ষণমুখর বাড়ি গুলোর সঙ্গে কথা বলি
সিঁড়িগুলো আমাকে উপহার পাঠায় মেঘ
আর সেই তুমুল বৃষ্টির মধ্যে আমি শুধু ভালবাসতে চাইতাম
তারপর একটা গাড়ি আমাকে নিয়ে যেতো সমুদ্রের ধারে
সমুদ্র ছিলো আমার সান্ত্বনা
কেটে গেছে অনেক বছর
একদিন চাঁদের সিক্সথ স্ট্রিট দিয়ে হাঁটছি
হঠাৎ তোমার সাথে দেখা
পৃথিবীর অর্ধেকটা খাওয়া
আকাশে ঘন হয়ে আছে নক্ষত্ররা
আর বুদবুদের মতো হারিয়ে যাচ্ছে তারা
হয়তো জলের কিনারায় আমাদের ঠিকানা
সূর্য উঠে ডুবে যাচ্ছে মূহূর্তে মূহূর্তে
রাত্রির উদ্ভিদ
অলস দুপুরবেলা
আমি এক বাণ্ডিল আকাশ হাতে দাঁড়িয়ে
মেঘের উপত্যকায় পাখির ডানা আমার বাড়ি হারাই আর ফিরে ফিরে আসে
প্রাচীন পৃথিবী ঘুমের মতো
আর জেগে থাকা হাওয়া মহান সমুদ্রকে উড়িয়ে দিচ্ছে
জলাধারের কান্না থেকে নেওয়া আমার পাণ্ডুলিপি
যেভাবে আমি হারিয়েছি বাল্যকাল
একটি সরলরেখায় জ্বলে উঠলো নক্ষত্ররা
আমার অনুমানে একটি বিশাল রাত্রির উদ্ভিদ
কালো পোশাক পরে রয়েছে দিন
নক্ষত্রের জেগে থাকায় গিয়ে কতবার ফিরে এসেছি
অন্ধকার বিশ্রাম
হাঁটু মুড়ে একটি গৃহ
ওপর দিয়ে ভেসে যাচ্ছে অনন্তের ডাকহরকরা
ঠিকানা হতভাগ্য চামড়ার গাছ
জনশূন্য হয়েছে পথ
আঘাত নিভিয়ে দিয়েছে আলো
কবরের কুয়োর ভেতর দিয়ে গড়ে উঠছে প্রাসাদ
আকাশে পৃথিবীর অনেক উপমা
মেঘে লুকিয়ে রাখা ছেলেবেলা
দুরন্ত গতিতে ছুটে গেল পর পর ফাঁকা মাঠ
মুঠো খুলে যায়
বৃষ্টি পড়ে
আঙুল গুলো দিয়ে তুমুল বর্ষনের শব্দ শোনা যাচ্ছে
নদী সব ভুলে বয়ে যায়
দিগন্তে ভেসে ওঠে রেল লাইন
কয়েকটা কাগজ
আমি শিখে নিয়েছিলাম মূর্তি
আর যা দিয়ে আমার হাড়গুলো তৈরি
জলের অনেক নিচে নেমে গেছে সময়
আর আমি সুদীর্ঘ হয়ে শুয়ে পড়লাম
ঠিক এঁকে ফেলা দ্রাঘিমা রেখা
কালো পোশাক পরে রয়েছে দিন
দূর ক্লিনিক
কোনো দুঃখ নেই
স্প্রিং ঘুরিয়ে দম নিচ্ছে কবর
আর নক্ষত্রগুলোকে দেখে মনে হয় গড়ে উঠছে শহর
গোল হয়ে ঘুরছে আমার মাথা
প্রচণ্ড সূর্য
পুড়ছে ঈগল
আর আমি হাতে হাতে বিলি করছি দরজা
দূর ক্লিনিক
কাপড় উড়ছে সাদা
ওখানে দুজন প্রেমিক প্রেমিকা
অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সন্ধ্যা দেখছে
গাছে পাতা গজাচ্ছে অজস্র দেশ
ঢালু হয়ে গড়াচ্ছে সমুদ্র গর্তের মুখে
জলের আন্দোলন
গভীর আয়নার তলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে জানি না কে
কোনো দুঃখ নেই
ধর্মনিরপেক্ষ
আকাশে নক্ষত্ররা ধর্মনিরপেক্ষ ছিলো
অন্ধকারে জোনাকিরা আলো জ্বেলে নিয়েছিলো
আর পৃথিবীর সব নদীগুলো বয়ে যাওয়ার আগে আগে বৃষ্টি গেয়ে যাচ্ছিলো আন্তর্জাতিক গান
আমি সবচেয়ে ভালবাসি মেঘ
আর শেষ পর্যন্ত নিরব থাকি
স্থানান্তরিত পর্বত
ঘুরিয়ে দেওয়া সমুদ্রের মুখ
ওদের কাছে জানতে চাই মানুষের ধর্ম
সুনশান রাস্তা
জেব্রা ক্রসিং পার হয়ে দেখি পড়ে রয়েছে ছায়া
দেখা যাচ্ছে দিগন্তের শেষ
দুঃসময়
ঘুম নেই
চাঁদও অন্ধকার
আকাশের অগণন তারাও এসেছে মানুষের মধ্যে
পৃথিবীর সব নদী গুলোও যোগ দিয়েছে জনস্রোতে
সকলেই জানে লক্ষ্যে পৌঁছুতে হবে
এখন কত রাত কে জানে
হাইরোডে অতিবাহিত গাড়ি গুলো ছুটে চলেছে দিগন্তের দিকে
ফায়ারিং স্কোয়াডের প্রতিমূর্তি মেঘ
নিশীথ বৃষ্টিতে ভিজছে আলো
অস্তিত্বহীন হাওয়ার আস্ফালন
অপ্রতিরোধ্য নয় পাথর
চামড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হিম শীতল অনুভব
শেষ রাতে শিশির নিয়ে এলো মৃত্যু সংবাদ
মাটির ভোর
সূর্য উঠবে এক্ষুনি
বন্ধুরা সবাই রাস্তায়
মেঘ এসে ঢেকে দিল হিংসা
বৃষ্টি নামলো
সুর্য তখন পূর্ব দেশীয় এক নাগরিকের মতো চলে যাচ্ছে
আমি অনন্ত কাল ফুরিয়ে ফেলেছি তৈরি করেছি একটি স্তম্ভ
এখন অন্ধকার আমার মায়ের মতো
আমি জন্মভূমি ভিক্ষা চাইছি
জলের সব ধর্ম আমার একার
আমি একটি ঢালু উপত্যকা
এই দুঃখের দিনে পর্বতকে বাজাই
পাখি উড়ছে আগ্নেয়াস্ত্রের সুর
আলো জ্বলছে পান্থ শালায়
আমি হৃদয়কে নিক্ষেপ করি দ্বীপ মালায়
বন্ধুরা সবাই রাস্তায়
দাঁতে ভাঙছে দরজার খিল
অসহ্য সহানুভূতিশীল আকাশ
______





Comments
Post a Comment