Skip to main content

কবিতার সঙ্গে






সেদিনটা

ব দ্রী না থ  পা ল

ভাবছো বুঝি কিনেই নিলে মাথা-
বলবে যা তাই করবো দু'চোখ বুজে,
করবো নাকো মোটেই অবাধ্যতা-
সত্যি মিথ্যা দেখবো নাকো খুঁজে।

যা দেবে তাই নেবো দু'হাত পেতে-
আনবো নাকো একটি কথাও মুখে,
গলিয়ে দেব মাথা হাঁড়িকাঠে-
থাকবে তুমি বেঁচে স্বর্গ সুখে !

জেগে জেগেই স্বপ্ন দ্যাখো নাকি !
শেকলটা যে কবেই গ্যাছে খুলে,
উড়ে গ্যাছে ডানা মেলে পাখি-
সেদিনটা আজ যাওনা রে ভাই ভুলে !!


মেঘ জমেছে

শু ভ ঙ্ক র  পা ল

তোমায় না বলা কথাগুলো কেমন যেন মনের কোণে মেঘ হয়ে জমে আছে!হ্যাঁ জানি মেঘ জমলে বৃষ্টি হয়! হলে হবে !কিন্তু তুমি কি সেই বৃষ্টিতে ভিজতে চাও? কোনদিনও চেয়েছিলে ?অনেক কষ্টে, হ্যাঁ আমি সকাল থেকে মধ্যরাত্রির সময়ের নৌকায় বারবার তোমার মনের নদীতে তরী পার করেছি, কিন্তু তুমিতো তখনো মেঘ হয়ে জমনি? এখন কেন মেঘ হয়ে জমছে !জানি বৃষ্টি হয় খুব!কিন্তু  তুমি একলা কি নদী পার করতে পারবে? তোমার ভয় লাগে না ?আমার তো ভীষণ ভয় হয় ;তোমাকে নিয়ে! জানি বাবা জানি মেঘ জমেছে যখন তখন বৃষ্টি হতে পারে, সেই বৃষ্টিতে আমিতো ভিজবো ! তুমিও কি একবার ভিজতে চাও!




ইন দ্য ডাস্ক  

 কা ল বো স

ঝুপ করে কোনোদিনই সন্ধ্যা নামেনি।
একটা রংমিলান্তি গায়ে মাখতে মাখতে মিলিয়ে যায় দিনের আলো।
ফেরারি হওয়ার সে ডাক রাতের থেকেও গভীর,
দিনের আলোর থেকেও অন্তহীন।
রঙের ছটায় আলতো মেঘের আস্তরণে
আমাকে অসীমত্বের সাথে লড়াই করতে হয়েছে
বিশেষণে বিশেষণে!
কতটা দীর্ঘ জাগরণে থেকেছে আমার প্রত্যয়,
আমার ব্যাকরণ পড়ে থেকেছে ব্যাঁকা রণে!
জানলার গরাদ ছুঁয়ে সে সময় যেন আমাকে নিয়ে গেছে সমস্ত যান্ত্রিক অযান্ত্রিক কলরবের বাইরে।
যে ডাকে মোহিত করেছে গোধূলি,
সে ডাক দিনের আলো দূর রাতের আলোও দেয়নি কখনো।
কত ঘড়ির লাশ পেরিয়ে আমি পথ হেঁটে গেছি বারবার!
মাথা ভার হয়ে এসেছে শেষে।
তাই গোধূলির সময়কে উপেক্ষা করে আমি মন পেতেছি বহুবার চায়ের ভাড়ে।
সিগারেটের ধোঁয়ায় মনে হয়েছে তাড়াতাড়ি সময় মিলিয়েছে; আসলে মননহীনতায়!
আর এখানে প্রতিটা সেকেন্ডকে উপেক্ষা করে আমি বলে এসেছি সন্ধ্যা নেমে যায় ঝুপ করে।
অদ্ভুত!





শুয়ে শুয়ে

মাথুর দাস



শুয়ে শুয়ে ওঠা যায়

    পাহাড়ের  খাড়াইয়ে,

বরফে  ঢেকে থাকা

    খাঁজগুলি মাড়াইয়ে ।



শুয়ে শুয়ে ওঠে চোর

        কার্নিশে,  পাইপে,

শুয়ে ওঠে  টিকটিকি

        দেয়ালে পা টিপে ।



শুয়ে শুয়ে ঢোকা যায়

      কিছু কিছু গুহাতে,

সেনানীরা  লড়ে  যায়

    বহামা দিয়ে দু'হাতে ।



শুয়ে শুয়ে  ওঠে  সাপ

        শোওয়া তার ধর্ম,

শুঁয়োপোকা শুয়ে ওঠে

        শুঁয়ো  তার   বর্ম ।



মেলে না তো কোথা যেন

          এক এক  দু'য়ে,

কোথা কোথা  আর  যেন

          ওঠা যায়  শুয়ে !



বুঝি তাই

ম ধু সূ দ ন  কুণ্ডু 

রাতের অন্ধকারের চমকিত আলোর ঝলকানি, 
তা মনে জাগায় মহুয়ার নেশার আমদানি।
কভু জাগায় প্রহর,
কভু হয় রাত্রি ভোর,
তবু একলা হাত একলাই রয়ে যায়।
শুধু মৃদু বাতাস কী যেন মাঝে মাঝে,
কানে কানে এসে বলে যায়।

ওরে বুঝিনা তার ভাষা,
বুঝি, সেটা সান্তনার ভাষা,
শুধু, বলে যায় বুঝি,
 আবাডালে সেও করছে প্রতিক্ষা,
সেদিনও সে থাকবে সাথে,
ওই চঞ্চল সমুদ্রের পাশে,
ভালোবাসার গভীর আলিঙ্গনে,
তার সাক্ষী হয়ে,
হয়ত একটু গরিব হবে সেদিন,
তবে ছাড়বেনা পিছু।
বলে যায়।



নেই রাজ্যে আছে-দের ভিড় 
                
 সুব্রত দত্ত


"এন্টেনা -- একটা কাক!"
নাঃ, সেটা ছিল গান, শিলাজিতের, যাক ---
এখন কাক বসার মত এন্টেনাও যে নেই! 

এন্টেনার মত, অনেক কিছুই আজ নেই,
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার মানুষ কই? --- নেই।
ভরসা করার মানুষ খোঁজো, --- নেই কোথাও নেই,
ভালবাসার জন্য কেউ? --- নাঃ, তাও নেই।
নেই --- পরস্পরের ওপর বিশ্বাস,
নেই --- বিধর্মে সহিষ্ণুতার শাঁস।
নেই --- সমতা রক্ষার দীক্ষা,
নেই --- প্রকৃত অর্জিত শিক্ষা।।

নেই - রাজ্যে তবে আছে টা কি?
আছে, আছে, আছে, দেখো খুলে আঁখি ---
শোষণ করবার হাজার খানা রাস্তা জানা আছে যে!

বিরোধিতা করার ফলে --- হাজতখানা আছে,
লুটেপুটে খেতে হলে --- মহাফেজখানা আছে।
নারীর সম্মান লুন্ঠন করতে --- লুম্পেনরাজ আছে,
খলনায়ককে নায়ক বানাতে --- সংবাদ মাধ্যম আছে।
আছে --- আত্মপ্রচারের ঢক্কানিনাদ,
আছে --- প্রলোভনের হাজার ফাঁদ।
আছে --- কেঁচো হয়ে থাকার স্বাদ,
আছে --- ঝাঁপ দেয়ার গভীর খাঁদ ।



রাধিকা সফরে আমি

সৌ গ ত  পা ল

অহেতুক ভেসে ওঠো,অহেতুক ই ডুবে যাও ফের
নারীর কি দোষ বলো, পুরুষ শেখেনি ব্যাকরণ
এত যে পাহাড় দেখি, আসলে  বালির আচ্ছাদন 
ক্রমশ পাথর হলে ক্রমিক শুরু হয় অন্তের

মনে করো, ছুটি এসে উবু হয়ে বসে দরজায়
মনে করো, এজন্মই মেনে নিলে স্বচ্ছ সমীচীন 
আদর আদর দাগ , আসলে তো বদলে যায় দিন
প্রশ্ন করো কার কাছে ...অন্ধকার অন্ধকারে ধায়

আমার সকল নাম অন্য অন্য নামে অনামিক 
আমার সকল প্রেম অন্য অন্য পদে নেচে ওঠে 
আমার সমস্ত আয়ু ধেয়ে যায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচনে
যে পথ নিখোঁজ হয় তবু সব প্রেম আশ্রমিক 
রাধিকা সফরে বঁধু ভিখিরি ফিরেছি কোন গোঠে
এত যে হৃদয় দিলে শরীর দিলে না কেন মনে...



আরেক প্রেমের গন্ধ         
 
ঋ ভু  চ ট্টো পা ধ্যা য়

 

সেই তো আকাশ মেঘের মতই হাল্কা

অথচ হাওয়া স্বপ্নের মত ভাসে

নেশা লাগানো সময় অনেক অল্প

বিচ্ছিরি এক রঙ লাগা নিঃশ্বাসে।

 জানো সম্পর্ক এক গাণিতিক বন্ধু?

মিথ্যে মাথায় জড়িয়েছে ক্যানভাস

তুলি তুলে নেওয়া দুটো হাত আজও অন্ধ

গোপনীয়তাই লুকিয়েছে সন্ত্রাস।

যদিও এখন মাঝ বরাবর সন্ধি

দগদগে ঘা দু’চামচ নুন ছেটানো,

যত ভুল সব পেনসিল আর ইরেজার

সব সুখ কণা আলতো ভাবেই চেটানো



Comments

  1. আমার কবিতা "নেই রাজ্যে আছেদের ভিড়" স্থান পাওয়ায় অফুরন্ত ধন্যবাদ জানাই।

    ReplyDelete

Post a Comment